প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
জেট ফুয়েল বিক্রির ডলার রূপান্তর ও জ্বালানি চুরির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ পদ্মা অয়েল
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
ভয়াবহ আর্থিক অব্যবস্থাপনা এবং একের পর এক বড় ধরনের জ্বালানি চুরির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে পড়েছে দেশের একমাত্র বিমান জ্বালানি বা জেট ফুয়েল সরবরাহকারী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড। দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি এই লাভজনক প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো মূলত এর অভ্যন্তরীণ তদারকি ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার অভাব এবং সামগ্রিক পরিচালন দক্ষতার গুরুতর দুর্বলতাকেই জাতির সামনে নগ্নভাবে উন্মোচিত করেছে।পদ্মা অয়েলের এই বিশাল আর্থিক বিতর্কের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির রহস্যজনক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা। অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে যে, বাংলাদেশে আসা আন্তর্জাতিক বা বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর কাছে জেট ফুয়েল বিক্রি বাবদ পাওয়া কোটি কোটি মার্কিন ডলার সরকারি কোষাগারে বা নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে জমা না রেখে, তা দেশের কয়েকটি নির্দিষ্ট বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর বা ভাঙিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞদের জোরালো দাবি, নিয়মবহির্ভূত এই ডলার বাণিজ্যের কারণে বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর অন্তত ১০০ কোটি টাকারও বেশি সম্ভাব্য বড় অঙ্কের রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে। অন্য দিকে এই গুরুতর দুর্নীতির তদন্তের কার্যকারিতা ও সদিচ্ছা নিয়েও এখন বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। কারণ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা দেওয়ার এক মাস পার হয়ে গেলেও অলৌকিক কারণে সেই কমিটি এখন পর্যন্ত তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। এরই মধ্যে আবার চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থিত পদ্মা অয়েলের প্রধান ডিপো থেকে বিপুল পরিমাণ জেট ফুয়েল চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা পুরো বিষয়টিতে নতুন করে বিতর্কের ঘি ঢেলে দিয়েছে। সংবেদনশীল ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত এমন একটি স্পর্শকাতর ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে পদ্মা অয়েলের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা এবং নিরাপত্তা তদারকি নিয়ে এখন খোদ সরকারি প্রশাসনও বেশ উদ্বিগ্ন।বিদ্যমান জাতীয় নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলো ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক সব এয়ারলাইনস তাদের ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের সম্পূর্ণ মূল্য বাধ্যতামূলকভাবে মার্কিন ডলারে পরিশোধ করে থাকে। তবে পদ্মা অয়েলের একটি প্রভাবশালী চক্র এই বিপুল পরিমাণ ডলার সরকারের সুনির্দিষ্ট ফরেন কারেন্সি বা বৈদেশিক মুদ্রা অ্যাকাউন্টে সংরক্ষণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে বেসরকারি ব্যাংকের সাধারণ হিসাবে টাকায় রূপান্তর করে ফেলছে। অথচ ঠিক তার কিছুদিন পরই যখন দেশের জন্য নতুন করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রয়োজন হয়, তখন পদ্মা অয়েলের মূল অভিভাবক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসি-কে আবার বাজার থেকে অনেক বেশি চড়া মূল্যে ডলার কিনতে হচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশি ও বিদেশি বিমান সংস্থাগুলো বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টন জেট ফুয়েল ক্রয় করে থাকে, যার বাজারমূল্য আকাশচুম্বী। হিসাব মতে, গত এক বছরে বাংলাদেশে মোট বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার টন মূল্যবান জেট ফুয়েল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন চৌধুরী এই আত্মঘাতী আর্থিক প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর চরম ও অপ্রয়োজনীয় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। ডলারের দৈনিক বিনিময় হারজনিত বিশাল পার্থক্যের কারণে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলে রাষ্ট্রের সরাসরি প্রায় ২ টাকা করে নিট ক্ষতি হচ্ছে। সেই হিসাবে বছরে ৩ লাখ ৭৭ হাজার টন জেট ফুয়েল বিক্রির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। দেশের খ্যাতনামা জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম তামিম মনে করেন, ডলার রূপান্তরের এই আত্মঘাতী প্রক্রিয়াটি যদি কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম না মেনে অনিয়মিতভাবে হয়ে থাকে, তবে এর পেছনে থাকা সংশ্লিষ্ট কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়ে লাভবান হয়েছেন। আর যদি এটি বিপিসির উর্ধ্বতন মহলের মৌখিক সম্মতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে করা হয়ে থাকে, তবে তা আরও বড় অপরাধ। কারণ এর অর্থ দাঁড়ায়, মূল প্রতিষ্ঠান বিপিসির বিশাল ক্ষতি নিশ্চিত করে পদ্মা অয়েল কৃত্রিমভাবে নিজেদের অতিরিক্ত মুনাফা দেখাচ্ছে।পদ্মা অয়েলের এই ডলার রূপান্তর প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত অসাধু চক্রটি এতটাই শক্তিশালী ও প্রভাবশালী যে তারা সরকারি তদন্ত কার্যক্রমকেও নিজেদের স্বার্থে দীর্ঘায়িত ও বাধাগ্রস্ত করতে সক্ষম বলে অভিযোগ উঠেছে। এই গুরুতর অনিয়মের ঘটনা অনুসন্ধানে গত ১৮ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। কমিটিকে মাত্র পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সমস্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আলোর মুখ দেখেনি। এই বিষয়ে তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য ও জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব ইশরাত রেজা বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, পুরো বিষয়টির আর্থিক লেনদেন ও ব্যাংকিং প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল হওয়ার কারণে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষ করতে তাদের কিছুটা বাড়তি সময় লাগছে। তবে তারা ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যাংকিং নথিপত্র ও চালান সংগ্রহ করেছেন এবং শিগগিরই কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বসে সেগুলো চূড়ান্ত পর্যালোচনা করে দ্রুতই প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেবেন। অন্য দিকে পদ্মা অয়েলের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান দাবি করেছেন, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন এবং কিছু প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে কিছুটা অনাকাঙ্ক্ষিত দেরি হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের গুরুতর অভিযোগ, কোম্পানির আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রধান দায়িত্বে থাকা অর্থ ও হিসাব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাঞ্চন চন্দ্র সোমের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটই প্রতিদিনের এই ডলার বিক্রির নেপথ্যে কাজ করছে এবং পরে আমদানির অজুহাতে বেশি দামে ডলার কিনে নিজেদের পকেট ভারী করছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে পুরোপুরি এড়িয়ে যান কাঞ্চন চন্দ্র সোম। তিনি কেবল জানান যে, বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর দৈনিক হিসাব ও লেনদেন রক্ষণাবেক্ষণের মূল দায়িত্বটি আসলে তাদের বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের। এই গড়িমসির বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম তামিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই জালিয়াতির ঘটনায় কারা জড়িত তা চিহ্নিত করা মোটেও কোনো কঠিন বা সময়সাপেক্ষ কাজ নয়। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এই ধরনের ঘটনা অনুসন্ধান করা খুবই সহজ। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক সময় মূল অপরাধীদের বাঁচাতে এবং জনগণের ক্ষোভ ধামাচাপা দিতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যার বড় প্রমাণ হলো বহু ক্ষেত্রে সেই তদন্ত প্রতিবেদন আর কখনোই আলোর মুখ দেখে না।বিপিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর কাছ থেকে সরাসরি ডলারে অর্থ গ্রহণ ও তা রাষ্ট্রীয় তহবিলের সুরক্ষায় জমা রাখার জন্য পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষকে দীর্ঘদিন ধরেই একটি স্থায়ী ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্ট বা বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব খোলার জন্য দফায় দফায় লিখিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে একাধিক সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি তা বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রেখে সম্প্রতি লোকদেখানো একটি বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব চালু করেছে। এই দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে জানতে বিপিসির পরিচালক (অর্থ) নাজনীন পারভীন এবং মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মুর্শেদ হোসেন আজাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (অডিট) জাহাঙ্গীর কবির নিশ্চিত করেছেন যে, পদ্মা অয়েল ইতোমধ্যে একটি বিশেষ হিসাব খুলেছে এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর কাছ থেকে আংশিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ গ্রহণ শুরু করেছে। তিনি মনে করেন, প্রক্রিয়াটি শুরু হওয়া অবশ্যই ভালো লক্ষণ, তবে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো এর স্বচ্ছতা ও সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। তার মতে, বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণ ডলারে লেনদেন করাই দেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বেশি বাস্তবসম্মত। কারণ বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এই জেট ফুয়েল আমদানি করে থাকে। তাই এই খাত থেকে অর্জিত আয়ও যদি সরাসরি ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্টে রিজার্ভ বা সংরক্ষণ করা হয়, তবে দেশের বর্তমান ডলার সংকটের সময়ে সেই জরুরি তহবিল অন্যান্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যবহার করা রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য অনেক সহজ হবে।আর্থিক জালিয়াতির এই বিশাল অধ্যায়ের মধ্যেই আবার গত ১১ মার্চ দেশজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যে একটি চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটে। গোদনাইল ডিপো থেকে কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ৭২ হাজার লিটার অত্যন্ত মূল্যবান জেট ফুয়েল নিয়ে একটি বড় ট্যাংকার রওনা দিলেও তা রহস্যজনকভাবে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছায়নি। ওই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সরকারি তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই গত ১৮ মে কোস্ট গার্ডের একটি চৌকস দল চট্টগ্রামের পতেঙ্গার একটি বেসরকারি গোপন ডিপোতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার লিটার জেট ফুয়েল ভর্তি ড্রাম জব্দ করে। সামরিক কর্মকর্তাদের ধারণা, জব্দকৃত এসব জেট ফুয়েল মূলত চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের মূল সরকারি ডিপো থেকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে চুরি করা হয়েছিল। একই অভিযানে সেখান থেকে আরও ৫ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেলও উদ্ধার করা হয়। এই চুরির ঘটনায় গত ১৯ মে পতেঙ্গা থানায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা সজীব আহমেদ বলেন, এই রাষ্ট্রীয় জ্বালানি চুরির সঙ্গে জড়িত মূল হোতা ও কালোবাজারিদের শনাক্ত করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অন্য দিকে নিখোঁজ হওয়া ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েলের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জড়িত থাকার অপরাধে গোদনাইল ডিপোর পাঁচজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সেখানে কর্মরত বাকি সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে দেশের অন্যত্র বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান। তিনি আরও জানান, পতেঙ্গা ডিপো থেকে কোস্ট গার্ড কর্তৃক জ্বালানি উদ্ধারের ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার কারণে আরও চার কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পদ্মা অয়েলের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, খোলাবাজারে প্রতি লিটার প্রায় ২০৫ টাকা মূল্যের জেট ফুয়েল, যা দেশের সবচেয়ে দামি ও পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের একটি, তা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও সংগঠিত অপরাধী চক্রের মাধ্যমে প্রকাশ্যে কেনাবেচা ও পাচার হচ্ছে। এই বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম তামিম প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, জেট ফুয়েল মূলত এক ধরনের অত্যন্ত পরিশোধিত কেরোসিন। চুরি হওয়া এই জ্বালানি অত্যন্ত উচ্চমূল্যের আন্তর্জাতিক পণ্য হওয়া সত্ত্বেও চোরের দল তা সাধারণ কেরোসিন হিসেবেই স্থানীয় বাজারে কম দামে বিক্রি করে দিয়ে থাকতে পারে। তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরি প্রতিরোধ এবং আর্থিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ব্যবস্থাপনা—উভয় ক্ষেত্রেই পদ্মা অয়েল নামক এই প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি অদক্ষ ও পঙ্গু হয়ে পড়েছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল