প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
কুয়েতের কাছে ২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ইরানের অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কুয়েত। উদ্ভূত এই ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে নিজেদের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে কুয়েত তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মিত্র দেশ কুয়েতের কাছে প্রায় ১ বিলিয়ন বা ১ শত ৯৮ কোটি ডলার সমমূল্যের অত্যাধুনিক সামরিক অস্ত্রশস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে অবস্থিত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি সরকারি বিবৃতিতে এই সামরিক চুক্তি ও অনুমোদনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই বিজ্ঞপ্তিতে চুক্তির বিশদ বিবরণ দিয়ে বলা হয়, এই অনুমোদনের ফলে কুয়েত যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের কাছ থেকে অত্যন্ত আধুনিক ও কার্যকর ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করার আইনি অধিকার পাবে। উল্লেখ্য, এই সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক সমর্থক দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। কুয়েত এই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের দূরপাল্লার ড্রোন বা আকাশপথের বহিরাগত আক্রমণ নিখুঁতভাবে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হবে।বিবৃতিতে কুয়েতের ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও উল্লেখ করেছে যে, এই প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্যগুলোকে সরাসরি সহায়তা করবে। কুয়েত দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকার জন্য আটলান্টিক চুক্তি সংস্থার বাইরে থাকা অন্যতম একটি প্রধান ও নির্ভরযোগ্য মিত্র দেশ হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে এই শক্তিশালী ও আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের এই বন্ধু রাষ্ট্রটির সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষাব্যুহ আরও বেশি সুসংহত হবে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন মনে করে, কুয়েত ঐতিহ্যগতভাবেই মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ শক্তি হিসেবে কাজ করে আসছে, তাই দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুরো অঞ্চলের শান্তির জন্যই অপরিহার্য।সূত্র: জিও নিউজ
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল