প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
হেমোরেজিক ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে সতর্ক করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
চলতি মরসুমে দেশজুড়ে সাধারণ ডেঙ্গুর চেয়েও মারাত্মক ও প্রাণঘাতী রূপ ‘হেমোরেজিক ডেঙ্গু’র প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যেতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের চিকিৎসকেরা। এই বিশেষ ধরনের ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের শরীরের অভ্যন্তরে ও বাইরে মারাত্মক রক্তক্ষরণের চরম ঝুঁকি থাকে, যা সময়মতো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের এই আশঙ্কার কথা পুনর্ব্যক্ত করে দেশের সাধারণ মানুষকে এডিস মশার কামড় থেকে বাঁচতে এবং ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে আগেভাগেই সর্বোচ্চ সচেতনতা অবলম্বন করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।আজ শনিবার সকালে রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির ঐতিহ্যবাহী রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী তিন মাস মেয়াদী একটি বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম বা বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে মন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সতর্কবার্তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকেরা মাঠপর্যায়ের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আশঙ্কা করছেন যে, এবারের বর্ষা মরসুমে ডেঙ্গুর রূপ অত্যন্ত ভয়াবহ ও সংহারী হতে পারে। এর মূল কারণ হলো, এবার সাধারণ ডেঙ্গুর চেয়ে হেমোরেজিক ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটার লক্ষণ বেশি দেখা যাচ্ছে। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রোগীর শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে। ফলে এই মহামারি পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে হলে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আগেই আমাদের প্রত্যককে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে।এডিস মশার বংশবিস্তার ঠেকাতে এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই রাজধানীসহ সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু করা হবে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে যদি কোনো সরকারি, বেসরকারি, বাণিজ্যিক বা আবাসিক ভবনে কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় লার্ভা বা এডিস মশার প্রজননস্থলের সন্ধান পাওয়া যায়, তবে আইন অমান্যকারী ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বড় অঙ্কের জরিমানা করা হবে। এর পাশাপাশি তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ডেঙ্গু দমনের এই জাতীয় কর্মসূচিতে যদি কেউ অবহেলা দেখায় কিংবা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের কাজে অসহযোগিতা করে, তবে আইন প্রয়োগ করে কঠোর শাস্তি দেওয়া ছাড়া সরকারের কাছে আর দ্বিতীয় কোনো বিকল্প পথ খোলা থাকবে না।অন্য দিকে একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ বা সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে এই প্রাণঘাতী মশা ও রোগ দূর করা সম্ভব নয়, এর জন্য সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে পরিচালিত মশা ও জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত একটি জরিপের ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরে প্রশাসক জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মোট তেষট্টিটি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এই তেষট্টিটি ওয়ার্ডের মধ্যে অন্তত আটাশটি ওয়ার্ডকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ বা রেড জোন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে মশার লার্ভার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। তিনি আরও যোগ করেন যে, ডেঙ্গু নির্মূলের এই লড়াইয়ে সাধারণ জনগণের দায়িত্ব যদি পঞ্চাশ শতাংশ হয় এবং সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পঞ্চাশ শতাংশ হয়, তবেই দুই পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গুর এই আসন্ন ভয়াবহ বিপর্যয় সফলভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল