প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
বিদেশি বিনিয়োগে নতুন গত নীতিমালা অনুমোদন মন্ত্রিসভায়
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
দেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ও বিদেশি পুঁজিপ্ৰবাহ আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে একটি অত্যন্ত যুগান্তকারী ‘প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ প্রণোদনা স্কিম নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নবম নিয়মিত বৈঠকে এই দূরদর্শী ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এই নীতিমালার প্রস্তাবটি সুনির্দিষ্টভাবে মন্ত্রিসভার টেবিলে আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এই নীতি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে জানানো হয়, বিশেষ আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সকল স্তরের বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা পুঁজি আনয়নে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখার সুবর্ণ সুযোগ করে দিতেই সরকার এই বিশেষ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ প্রণোদনা স্কিম নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এর মাধ্যমে যারা দেশে বিদেশি অর্থ বা বড় বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ নিয়ে আসতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবেন, তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও আকর্ষণীয় প্রণোদনা দেওয়া হবে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন নতুন কর্মসংস্থানের বিশাল ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকেরা।একই বৈঠকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের পক্ষ থেকে উত্থাপিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন এই সংশোধনী প্রস্তাবের আইনি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণার পরিধি আরও আধুনিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন থেকে যেকোনো ধরনের মুনাফাভিত্তিক বা অ-মুনাফাভিত্তিক বাণিজ্যিক কোম্পানি, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বা বিশেষায়িত সংগঠন গঠন করতে পারবে। একই সাথে ওই সমস্ত কোম্পানি বা সংগঠনের শেয়ার অর্জন করা এবং সেগুলোর মালিকানা বা অংশীদারিত্বের ধরণ নির্ধারণের সুনির্দিষ্ট আইনি বিধান অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যেই মূলত বিদ্যমান বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯৮-এর জরুরি সংশোধন করা অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। এই আইন পাশের ফলে দেশের চিকিৎসা খাতে আধুনিক গবেষণার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।এসব গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি গতকালের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য আরও একটি অত্যন্ত গৌরবময় ও ঐতিহাসিক অর্জনের বিষয়ে আনন্দ প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশের বিশিষ্ট কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব ড. খলিলুর রহমান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অনন্য কৃতিত্ব প্রদর্শন করে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের মর্যাদাপূর্ণ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে আন্তরিক অভিনন্দন ও গভীর শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই অভাবনীয় কূটনৈতিক সাফল্য দেশের ভাবমূর্তিকে বহুগুণ উজ্জ্বল করেছে বলে বৈঠকে অংশ নেওয়া সদস্যরা অভিমত ব্যক্ত করেন।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল