প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
শর্ত পূরণে ব্যর্থ ১৪৭ ডিপ্লোমা প্রতিষ্ঠানকে শোকজ
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের শিক্ষার্থী ভর্তি না করার কারণে দেশের ১৪৭টি ডিপ্লোমা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন কেন চূড়ান্তভাবে বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কঠোর আইনি নোটিশ বা কারণ দর্শানোর চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। বৃহস্পতিবার বোর্ডের পরিদর্শক এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সচিব মো. আল মাসুদ করিম স্বাক্ষরিত একটি বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে এই কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়। দেশের কারিগরি শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখতে এবং নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের বিশৃঙ্খলা রোধে বোর্ডের এই পদক্ষেপকে একটি বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযান হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদেরা।শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ওই আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সরাসরি আওতাধীন ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল এবং ডিপ্লোমা ইন অ্যাগ্রিকালচার শিক্ষাক্রমের অধীনে পরিচালিত বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর ধরে কোনো নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে না। এই নিষ্ক্রিয়তার দায়ে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব ধরনের নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত করাসহ তাদের মূল পাঠদান অনুমোদন কেন চিরতরে বাতিল করা হবে না—তার একটি যৌক্তিক ও সন্তোষজনক লিখিত ব্যাখ্যা আগামী ১৮ই জুনের মধ্যে বোর্ডের দফতরে সশরীরে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া মোট ১৪৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশই প্রকৌশল খাতের। এর মধ্যে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমের আওতাভুক্ত ১২০টি প্রতিষ্ঠান, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল শিক্ষাক্রমের ১২টি প্রতিষ্ঠান এবং ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার শিক্ষাক্রমের ১৫টি অচল প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বা শিক্ষা কার্যক্রম না থাকায় এগুলোর অবকাঠামো এবং শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।বোর্ডের পাঠানো ওই চিঠিতে আইনি কাঠামোর উল্লেখ করে বলা হয়, দেশের ‘বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২০’-এর উপবিধি ৫.৪-এর স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের কাঙ্ক্ষিত একাডেমিক ফলাফল প্রদর্শন করতে না পারে কিংবা প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, মানসম্মত শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, কার্যকর ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন, পর্যাপ্ত আসবাবপত্র, ল্যাবরেটরির জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি স্থাপনসহ পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার সময়ে আরোপিত অন্যান্য প্রযোজ্য শর্তাবলি পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে বোর্ড যেকোনো সময় সেই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি সম্পূর্ণ বাতিল বা প্রত্যাহার করার একক আইনি ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।শিক্ষা বোর্ড তাদের চিঠিতে আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময় অর্থাৎ আগামী ১৮ই জুনের মধ্যে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বোর্ডের কাছে যৌক্তিক, বাস্তবসম্মত ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদানে ব্যর্থ হয়, তবে ধরে নেওয়া হবে তাদের এই বিষয়ে কোনো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেই। এর পরপরই সংশ্লিষ্ট নিষ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিদ্যমান সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পাঠদান বাতিলসহ চূড়ান্ত ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বোর্ডের এই কঠোর অবস্থানের ফলে দেশের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাঙ্গনে এক ধরনের তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্তিত্ব এখন বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল