প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
জ্বালানি খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস আমিরাতের
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সব ধরনের অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতার জোরালো আশ্বাস দিয়েছে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাত। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সাথে তাঁর সচিবালয় কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী আল-হামুদী এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। দ্বিপাক্ষিক এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত তাঁর দেশের সরকারের পক্ষ থেকে এই সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রদূত উভয়েই দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।বৈঠককালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশের অপরিশোধিত খনিজ তেল এবং বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির অন্যতম প্রধান ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য একটি উৎস হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি কিংবা যেকোনো ধরনের আকস্মিক ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কা থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে সুরক্ষিত রাখতে বাংলাদেশ সরকার একটি বিশেষ কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক যেকোনো সংকটের সময়েও যাতে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ পায়, তা নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতি কাঠামোর আওতায় আনার বিষয়টি তিনি রাষ্ট্রদূতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।এর পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের আধুনিকায়নে বেশ কিছু দূরদর্শী প্রস্তাব রাষ্ট্রদূতের সামনে উপস্থাপন করেন। তিনি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্যের পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা, আন্তর্জাতিক খোলা বাজারের আকস্মিক অস্থিরতা ও উচ্চ মূল্য এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা, দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি গ্রিড ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং কার্বন নির্গমন হ্রাসের মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। একই সাথে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সচল করতে স্বয়ংক্রিয় সাব-স্টেশন স্থাপন এবং গভীর সমুদ্রবন্দরের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক মানের জ্বালানি বাংকানিং বা তেল সরবরাহের বিশেষ সুবিধা তৈরি করার ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উন্নত প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করার আহ্বান জানান।বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত যেভাবে বর্তমানে নিজেদের দেশে পরিবেশবান্ধব সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনের একটি বিশাল আন্তর্জাতিক কেন্দ্র বা হাব হিসেবে গড়ে তুলছে, সেই সফল মডেলটি বাংলাদেশেও বাস্তবায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার দেশের বড় বড় সার কারখানা এবং ভারী ইস্পাত শিল্পগুলোকে প্রচলিত প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার থেকে বের করে এনে পরিবেশবান্ধব সবুজ হাইড্রোজেন কিংবা সবুজ অ্যামোনিয়া প্রযুক্তিতে রূপান্তর করার একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এই বিশাল ও ব্যয়বহুল রূপান্তর প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বড় ধরনের আর্থিক বিনিয়োগ এবং উচ্চমানের কারিগরি সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।প্রতিমন্ত্রীর এই সমস্ত প্রস্তাব ও পরিকল্পনার কথা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে শোনার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী আল-হামুদী বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের যুগোপযোগী উন্নয়ন এবং নতুন নতুন ক্ষেত্র সম্প্রসারণে তাঁর দেশের সরকারের গভীর আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশের এই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের যাত্রায় সংযুক্ত আরব আমিরাত সবসময় পাশে থাকবে এবং সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যকার এই ঐতিহাসিক ও দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আগামী দিনগুলোতে আরও নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁর সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আলতাপ হোসেনসহ সরকারের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদল।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল