প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের ১৪ দেশে নতুন সতর্কতা জারি যুক্তরাষ্ট্রের
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যেকোনো মুহূর্তে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটার আশঙ্কায় অঞ্চলটির ১৪টি দেশে নতুন করে জরুরি ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। চলমান এই চরম অস্থিতিশীল ও সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে ওইসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বর্তমানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিশেষ নির্দেশনার আলোকেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলো এই জরুরি ও সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে উচ্চমাত্রার সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করায় পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল রূপ ধারণ করেছে এবং যেকোনো মুহূর্তে এর রূপ দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সার্বক্ষণিক আত্মরক্ষামূলক সতর্কতা অবলম্বন করার এবং চলমান ঘটনাবলির ওপর কড়া নজর রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে। বিবৃতিতে আরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, যেকোনো সময় আকস্মিক বৈরী পরিস্থিতি কিংবা বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। এমন এক চরম জরুরি অবস্থায় মার্কিন নাগরিকদের নিজ নিজ এলাকায় দ্রুত নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয়ের অবস্থান এবং সেখান থেকে নিরাপদে সরে যাওয়ার উপায় আগে থেকেই জেনে রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের এই নতুন ভ্রমণ সতর্কতায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে প্রধানত দুটি ভিন্ন স্তরে বা ভাগে বিভক্ত করেছে। এর মধ্যে প্রথম স্তর তথা তিন নম্বর মাত্রার উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে বাহরাইন, ইসরায়েল, পশ্চিম তীর, জর্ডান, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে। এই দেশগুলোতে মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে তা পুনর্বিবেচনা করার জন্য জোরালো অনুরোধ করা হয়েছে, তবে এতে সরাসরি ভ্রমণের ওপর কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকে না। অন্যদিকে, দ্বিতীয় স্তর তথা চার নম্বর মাত্রার সর্বোচ্চ চরম সতর্কতায় রাখা হয়েছে ইরান, ইরাক, লেবানন, সিরিয়া, গাজা এবং ইয়েমেনকে। চলমান সশস্ত্র সংঘাত, গৃহযুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ ও চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই এলাকাগুলোতে মার্কিন নাগরিকদের কোনো অবস্থাতেই ভ্রমণ না করার জন্য চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা ও সর্বোচ্চ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা বলা হলেও, বাস্তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এবং উত্তেজনা বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু আকস্মিক সামরিক ও বিমান হামলা এই অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা এবং সেখানে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তাকে এক চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে, গত বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন ড্রোন হামলার ঘটনা পুরো পরিস্থিতিকে আরও অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে। ওই আকস্মিক ড্রোন হামলায় একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হন এবং অন্তত ৬৮ জন সাধারণ মানুষ গুরুতর আহত হন। বেসামরিক একটি বিমানবন্দরে এই ধরনের বড় হামলার পর থেকেই মূলত পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার তোড়জোড় শুরু হয়, যারই চূড়ান্ত প্রতিফলন হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যাপকভিত্তিক ভ্রমণ সতর্কতা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল