প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬
শহীদ জিয়ার পথেই বিএনপির আগামী দিনের রাজনীতি
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কূটনীতি’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান, এ এন এম মুনিরুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক আবু রূশদ এবং ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান। বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক দর্শন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনে তাঁর অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় ও আত্মমর্যাদার দৃঢ় ভিত্তি উপহার দিয়েছিলেন এবং তাঁর প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করেই বিএনপি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। তিনি উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন, তখন দেশ নানা সংকট ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সেই মুহূর্তে তিনি দেশের সকল রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশ পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়া। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, শহীদ জিয়া বাংলাদেশকে কোনো দেশের প্রতিদ্বন্দ্বী বা নির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং জনগণের নিজস্ব শক্তি ও সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তোলে।বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমান যে পথ দেখিয়েছেন, দল সেই পথেই অগ্রসর হতে চায় এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কর্মপদ্ধতির মধ্যেও শহীদ জিয়ার আদর্শ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতিফলন স্পষ্ট। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মার্চের চরম অনিশ্চয়তার মুহূর্তে নিজের জীবন বাজি রেখে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং সমগ্র জাতিকে সংগঠিত করতে এক অনন্য ভূমিকা পালন করেন। শৈশব থেকে পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন প্রত্যক্ষ করার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১-পূর্ববর্তী সময়ের সেই নির্যাতনকে কখনোই ক্ষমা করা যায় না এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার তুলনা হতে পারে না। বিগত নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাচনের পূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হলেও, দেশের মানুষ শেষ পর্যন্ত বিএনপির পক্ষেই রায় দিয়েছে। কারণ জনগণ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে যে, দেশের স্বার্থ এবং গণতন্ত্র একমাত্র বিএনপির হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল