প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬
প্রিন্সেস অব অস্তুরিয়াস পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়লেন মেসি
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এবং ঐতিহ্যবাহী স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত প্রিন্সেস অস্তুরিয়াস পুরস্কারের তালিকায় যুক্ত হলো এক নতুন ইতিহাস। ফুটবলের আঙিনায় এই সম্মানজনক পুরস্কারটি পাওয়ার নজির অবশ্য আগেও দেখা গেছে। এর আগে যৌথ দলগত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০২ সালে বিশ্বজয়ী ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল এবং ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া স্পেন জাতীয় ফুটবল দল এই গৌরব অর্জন করেছিল। পরবর্তীতে ২০১২ সালে স্পেনের দুই কিংবদন্তি ফুটবলার ইকার ক্যাসিয়াস ও জাভি হার্নান্দেজ যৌথভাবে এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। তবে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় সম্পূর্ণ নতুন এক অধ্যায় রচনা করে প্রথম কোনো একক ফুটবলার হিসেবে এবার এই অনন্য সাধারণ পুরস্কারটি নিজের করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি।স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল অস্তুরিয়াসের রাণির পক্ষ থেকে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই বিশেষ পুরস্কারটি প্রদান করা হয়ে থাকে। সাধারণত শিল্পকলা, সাহিত্য, সমাজবিজ্ঞান, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ক্রীড়াসহ মানবকল্যাণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ ও যুগান্তকারী অবদানের জন্য বিশ্বসেরা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়। এবার ফুটবল মাঠে দীর্ঘদিনের জাদুকরী পারফরম্যান্স এবং বিশ্ব ফুটবলে তাঁর সামগ্রিক অবদানের অনন্য স্বীকৃতিস্বরূপ লিওনেল মেসিকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে। আগামী অক্টোবর মাসে স্পেনে আয়োজিত একটি জমকালো ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ট্রফিটি তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হবে।অস্তুরিয়াস পুরস্কার ফাউন্ডেশনের সভাপতি তেরেসা পেরেলসসহ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একাধিক বিশিষ্ট সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের জুরি বোর্ড চূড়ান্ত ভোটের মাধ্যমে মেসিকে এই সম্মান প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পুরস্কার ঘোষণার পর জুরি বোর্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আর্জেন্টিনার এই অধিনায়কের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। জুরিদের সেই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, লিওনেল মেসি কেবল তাঁর অসাধারণ ফুটবল প্রতিভা বা অনন্য ক্রীড়াজীবনের জন্যই সমাদৃত নন, বরং মাঠের বাইরে সমাজকল্যাণমূলক কাজেও তাঁর অবদান অতুলনীয়। বিশেষ করে বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত শিশুদের শিক্ষা ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে যে দীর্ঘমেয়াদি ও উল্লেখযোগ্য মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন, তা প্রশংসার দাবিদার। ফুটবল ইতিহাসের সর্বাধিক শিরোপাজয়ী এই খেলোয়াড় মাঠে ও মাঠের বাইরে তাঁর আদর্শ আচরণ, খেলার প্রতি ধারাবাহিকতা, অনন্য বিনয় এবং দলীয় পারফরম্যান্সের প্রতি অটুট অঙ্গীকারবদ্ধতার কারণে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন।লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবলের ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সফলতম তারকা তিনি। আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে তিনি ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ২০২১ ও ২০২৪ সালে টানা দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছেন। এর আগে ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকে দেশের হয়ে জিতেছিলেন ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক। ক্লাব ফুটবলেও তাঁর সাফল্যের খাতা সমাদৃত ও রূপকথার মতো। স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে তিনি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১০টি ঘরোয়া লিগ তথা লা লিগা এবং ৪টি ইউরোপসেরার ট্রফি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করেছেন। ইউরোপের অধ্যায় চুকিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পরও তাঁর জয়ের রথ থামেনি। নতুন এই ক্লাবের হয়েও তিনি ইতিমধ্যে মেজর লিগ সকার কাপ, সাপোর্টাস শিল্ড এবং লিগস কাপের মতো ট্রফিগুলো নিজের শোকেসে যুক্ত করেছেন।এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়ে স্বভাবতই অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত ও আনন্দিত লিওনেল মেসি। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে জাতীয় দলের সাথে অবস্থান করছেন এই ফুটবল জাদুকর। সেখান থেকেই এক বিশেষ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে থাকা তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি। মেসি তাঁর বার্তায় বলেন যে, তাঁরা বর্তমানে জাতীয় দলের ক্যাম্প নিয়ে কানসাস সিটিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং আসন্ন ম্যাচগুলোর জন্য নিজেদের পুরো মনোযোগ ধরে রেখেছেন। তবে আজ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরপরই তিনি এই আনন্দের খবরটি জানতে পারেন এবং বিশ্বজুড়ে থাকা অগুনতি মানুষের অভিনন্দন বার্তা পেতে শুরু করেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, এমন একটি বিশ্বমানের স্বীকৃতি পেয়ে তিনি অত্যন্ত গর্বিত ও সম্মানিত বোধ করছেন। এই পুরস্কারের গুরুত্ব তাঁর কাছে অনেক বেশি, কারণ এটি কেবল মাঠের ভেতরে তাঁর ফুটবল শৈলীর জন্যই দেওয়া হয়নি, বরং মাঠের বাইরে সাধারণ মানুষের কল্যাণে তিনি যে সামাজিক কাজগুলো করে আসছেন, তারও একটি বড় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এটি।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল