প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
দোষ স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন সোহেল রানা
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে মাত্র আট বছর বয়সী এক অবুঝ শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মম ও পাশবিকভাবে হত্যার ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত আসামি সোহেল রানা অবশেষে আদালতে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে বিচারকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। বুধবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার শুনানির অংশ হিসেবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় তিনি বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে এই আকুতি জানান। তবে নিজের অপরাধ স্বীকার করার পাশাপাশি এই ঘটনায় অভিযুক্ত তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেছেন তিনি।আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শুনানির একপর্যায়ে বিজ্ঞ বিচারক আসামি সোহেল রানার কাছে জানতে চান যে, নিজের পক্ষে তার আর কোনো বক্তব্য বা কিছু বলার আছে কি না। বিচারকের এই প্রশ্নের জবাবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা সোহেল রানা অত্যন্ত অসংলগ্ন অথচ অপরাধ স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেন। তিনি আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, ঘটনার সময় তার সঙ্গে ডলার নামের আরও একজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন, যাকে কেউ দেখতে পায়নি বা এখনো আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। সেই সাথে তিনি ওই ডলার নামক ব্যক্তিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার অনুরোধ জানান। নিজের অপরাধের কথা মেনে নিয়ে সোহেল রানা বিচারককে বলেন যে, তিনি বড় ধরনের অপরাধ করেছেন ঠিকই, কিন্তু এই নৃশংস ঘটনায় তিনি একা দোষী নন। এরপর নিজের সন্তানের দোহাই দিয়ে তিনি আদালতের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চান এবং একই সাথে এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের আশ্রয় নিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মামলা থেকে পুরোপুরি খালাস পাওয়ার আবেদন জানান।একটি নিষ্পাপ শিশুকে নির্যাতনের পর এভাবে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনাটি সে সময় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছিল। এই ঘটনায় মূল আসামির এমন নাটকীয় ও স্ববিরোধী জবানবন্দি মামলার তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়াকে আরও গভীর পর্যালোচনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। নিজের অপরাধ স্বীকারের পাশাপাশি অন্য কারও সম্পৃক্ততার এই নতুন দাবি আদালত কীভাবে বিবেচনা করবে, তা নিয়ে এখন আইনি মহলে নানা আলোচনা চলছে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন কোনো পৈশাচিক ঘটনা আর না ঘটে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল