পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের উপচে পড়া ভিড় আর বাড়তি চাপের মধ্যেও রেলযাত্রায় বড় ধরনের কোনো সময়সূচি বা শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই বলে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। রবিবার দুপুরে রাজধানীর প্রধান রেল প্রবেশদ্বার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন আকস্মিক পরিদর্শনে এসে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই স্বস্তিদায়ক তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, বিশেষ করে পুরোনো রেললাইন এবং সীমিত সংখ্যক রেল ইঞ্জিন বা লোকোমোটিভ নিয়েই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এবারের ঈদযাত্রায় ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে করে সাধারণ মানুষের ঘরে ফেরার আনন্দ কোনোভাবেই বিষাদে পরিণত না হয়।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্বীকার করেন যে, ঈদের এই বিশেষ সময়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ট্রেনের টিকিটের আকাশচুম্বী চাহিদা থাকে। বাসের তুলনায় আরামদায়ক ও নিরাপদ হওয়ায় ঢাকার বাইরে যেতে চাওয়া মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের কাছে ট্রেনে ভ্রমণের আলাদা একটি গুরুত্ব ও আবেগ কাজ করে। তবে বাস্তব চিত্র হলো, সাধারণ মানুষের বিপুল চাহিদার তুলনায় আমাদের ট্রেনের সংখ্যা এবং সামগ্রিক সক্ষমতা একেবারেই পর্যাপ্ত নয়। সাধারণ সময়ে ঢাকা থেকে বিভিন্ন দূরপাল্লার আন্তঃনগর ট্রেনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় বত্রিশ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। কিন্তু এই ঈদ উপলক্ষে রেলের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পঁচিশ শতাংশ টিকিট বাজারে ছাড়া হয়েছে, যার ফলে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় চল্লিশ হাজার যাত্রী পরিবহনের বিশেষ ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে। অথচ বাস্তবতা হলো, ঈদের এই দিনগুলোতে প্রতিদিন ঢাকা ছাড়ার জন্য প্রায় লক্ষাধিক মানুষের ট্রেনে ভ্রমণের তীব্র চাহিদা থাকে, যা বিদ্যমান পরিকাঠামো দিয়ে শতভাগ পূরণ করা সত্যিই কঠিন।
কমলাপুর স্টেশনে নিজের এই আকস্মিক পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে পরিবহনমন্ত্রী বলেন, তিনি কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই স্টেশনে এসেছেন এবং কোন নির্দিষ্ট ট্রেনে উঠবেন তা আগে থেকে ঠিক করা ছিল না। সম্পূর্ণ আকস্মিকভাবেই তিনি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি ট্রেনে চড়েন এবং ভেতরে থাকা সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। যাত্রীরা রেলের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং সময়মতো ট্রেন ছাড়ায় বেশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এছাড়া স্টেশন প্ল্যাটফর্ম এবং ট্রেনের ভেতরের পরিবেশও আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি মনে হয়েছে। বসার আসনের সীমার মধ্যেই যাত্রীরা যাতায়াত করছেন, যদিও মানুষের মাত্রাতিরিক্ত চাপের কথা বিবেচনা করে মানবিক কারণে আসনবিহীন অতিরিক্ত পঁচিশ শতাংশ টিকিট দিতে বাধ্য হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
সকালের দিকে কয়েকটি ট্রেনের সামান্য বিলম্বের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সকালে মাত্র তিনটি ট্রেন কিছুটা দেরিতে প্ল্যাটফর্ম ছেড়েছে। এর পেছনে একটি বিশেষ কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনটি যখন ঢাকার উদ্দেশ্যে আসছিল, তখন রেললাইনের ওপর স্থানীয় মানুষের শুকাতে দেওয়া খড়ের কারণে ট্রেনের চাকা পিছলে বা স্লিপ কেটে ইঞ্জিনটি সাময়িকভাবে বিকল হয়ে পড়ে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে ট্রেনটির ঢাকায় পৌঁছাতে বেশ খানিকটা দেরি হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই এর পরবর্তী ট্রিপ অর্থাৎ কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ঢাকা ছেড়ে যেতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
এই বিলম্বের কারণে আগামীকালের বা পরদিনের ট্রেন চলাচলের সময়সূচিতে কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে কি না, তা জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, রবিবারের মধ্যেই এই সাময়িক সমস্যা পুরোপুরি কেটে যাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রূপ নেবে। এর আগে শনিবারেও একটি ট্রেনের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল, যা রেলের প্রকৌশলীরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মেরামত করতে সক্ষম হয়েছেন। এই ধরনের যেকোনো আকস্মিক ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য স্টেশনে সর্বদা অতিরিক্ত ইঞ্জিন বা স্পেয়ার লোকোমোটিভ প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং রেলকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
রেলমন্ত্রী আরও দাবি করেন যে, দেশের যেসব রেললাইনে বা সেতুতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে কিংবা ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেগুলোকে আগে থেকেই সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে ঈদের আগেই সেখানে বিশেষ সংস্কার কাজ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো রেলওয়ে প্রশাসন এখন দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটার সুযোগ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় রেলের সার্বিক পরিবেশ ও যাত্রীসেবার মান বহুগুণ উন্নত হয়েছে। স্বয়ং যাত্রীরাই স্বীকার করছেন যে, আগের জরাজীর্ণ ও নোংরা পরিবেশ এখন আর নেই। বিশেষ করে অনলাইনের মাধ্যমে শতভাগ টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করার ফলে স্টেশনে টিকিটের জন্য হাহাকার কমেছে এবং টিকিট কালোবাজারি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
আসন্ন ঈদযাত্রাকে আরও স্বস্তিদায়ক করতে বিভিন্ন রুটের ট্রেনের সাথে নতুন করে আরও একান্নটি যাত্রীবাহী বগি বা কোচ যুক্ত করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। বর্তমানে রেলের বহরে ৮২ থেকে ৮৩টি মিটারগেজ ইঞ্জিন সম্পূর্ণ সচল অবস্থায় যাত্রীসেবায় নিয়োজিত আছে। খুব দ্রুতই এর সাথে আরও এক-দুটি নতুন ইঞ্জিন যুক্ত হতে যাচ্ছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, যদি ৮৫ থেকে ৮৬টি মিটারগেজ ইঞ্জিন এই ঈদযাত্রায় পুরোপুরি সচল রাখা যায়, তবে শিডিউল বিপর্যয়ের ন্যূনতম সম্ভাবনাও আর অবশিষ্ট থাকবে না এবং দেশের দূরদূরান্তের যাত্রীসাধারণ কোনো ভোগান্তি ছাড়াই অত্যন্ত স্বচ্ছন্দে ও নিরাপদে প্রিয়জনের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনকালে মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

রোববার, ২৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের উপচে পড়া ভিড় আর বাড়তি চাপের মধ্যেও রেলযাত্রায় বড় ধরনের কোনো সময়সূচি বা শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই বলে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। রবিবার দুপুরে রাজধানীর প্রধান রেল প্রবেশদ্বার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন আকস্মিক পরিদর্শনে এসে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই স্বস্তিদায়ক তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, বিশেষ করে পুরোনো রেললাইন এবং সীমিত সংখ্যক রেল ইঞ্জিন বা লোকোমোটিভ নিয়েই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এবারের ঈদযাত্রায় ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে করে সাধারণ মানুষের ঘরে ফেরার আনন্দ কোনোভাবেই বিষাদে পরিণত না হয়।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্বীকার করেন যে, ঈদের এই বিশেষ সময়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ট্রেনের টিকিটের আকাশচুম্বী চাহিদা থাকে। বাসের তুলনায় আরামদায়ক ও নিরাপদ হওয়ায় ঢাকার বাইরে যেতে চাওয়া মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের কাছে ট্রেনে ভ্রমণের আলাদা একটি গুরুত্ব ও আবেগ কাজ করে। তবে বাস্তব চিত্র হলো, সাধারণ মানুষের বিপুল চাহিদার তুলনায় আমাদের ট্রেনের সংখ্যা এবং সামগ্রিক সক্ষমতা একেবারেই পর্যাপ্ত নয়। সাধারণ সময়ে ঢাকা থেকে বিভিন্ন দূরপাল্লার আন্তঃনগর ট্রেনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় বত্রিশ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। কিন্তু এই ঈদ উপলক্ষে রেলের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পঁচিশ শতাংশ টিকিট বাজারে ছাড়া হয়েছে, যার ফলে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় চল্লিশ হাজার যাত্রী পরিবহনের বিশেষ ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে। অথচ বাস্তবতা হলো, ঈদের এই দিনগুলোতে প্রতিদিন ঢাকা ছাড়ার জন্য প্রায় লক্ষাধিক মানুষের ট্রেনে ভ্রমণের তীব্র চাহিদা থাকে, যা বিদ্যমান পরিকাঠামো দিয়ে শতভাগ পূরণ করা সত্যিই কঠিন।
কমলাপুর স্টেশনে নিজের এই আকস্মিক পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে পরিবহনমন্ত্রী বলেন, তিনি কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই স্টেশনে এসেছেন এবং কোন নির্দিষ্ট ট্রেনে উঠবেন তা আগে থেকে ঠিক করা ছিল না। সম্পূর্ণ আকস্মিকভাবেই তিনি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি ট্রেনে চড়েন এবং ভেতরে থাকা সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। যাত্রীরা রেলের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং সময়মতো ট্রেন ছাড়ায় বেশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এছাড়া স্টেশন প্ল্যাটফর্ম এবং ট্রেনের ভেতরের পরিবেশও আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি মনে হয়েছে। বসার আসনের সীমার মধ্যেই যাত্রীরা যাতায়াত করছেন, যদিও মানুষের মাত্রাতিরিক্ত চাপের কথা বিবেচনা করে মানবিক কারণে আসনবিহীন অতিরিক্ত পঁচিশ শতাংশ টিকিট দিতে বাধ্য হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
সকালের দিকে কয়েকটি ট্রেনের সামান্য বিলম্বের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সকালে মাত্র তিনটি ট্রেন কিছুটা দেরিতে প্ল্যাটফর্ম ছেড়েছে। এর পেছনে একটি বিশেষ কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনটি যখন ঢাকার উদ্দেশ্যে আসছিল, তখন রেললাইনের ওপর স্থানীয় মানুষের শুকাতে দেওয়া খড়ের কারণে ট্রেনের চাকা পিছলে বা স্লিপ কেটে ইঞ্জিনটি সাময়িকভাবে বিকল হয়ে পড়ে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে ট্রেনটির ঢাকায় পৌঁছাতে বেশ খানিকটা দেরি হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই এর পরবর্তী ট্রিপ অর্থাৎ কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ঢাকা ছেড়ে যেতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
এই বিলম্বের কারণে আগামীকালের বা পরদিনের ট্রেন চলাচলের সময়সূচিতে কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে কি না, তা জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, রবিবারের মধ্যেই এই সাময়িক সমস্যা পুরোপুরি কেটে যাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রূপ নেবে। এর আগে শনিবারেও একটি ট্রেনের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল, যা রেলের প্রকৌশলীরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মেরামত করতে সক্ষম হয়েছেন। এই ধরনের যেকোনো আকস্মিক ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য স্টেশনে সর্বদা অতিরিক্ত ইঞ্জিন বা স্পেয়ার লোকোমোটিভ প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং রেলকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
রেলমন্ত্রী আরও দাবি করেন যে, দেশের যেসব রেললাইনে বা সেতুতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে কিংবা ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেগুলোকে আগে থেকেই সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে ঈদের আগেই সেখানে বিশেষ সংস্কার কাজ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো রেলওয়ে প্রশাসন এখন দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটার সুযোগ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় রেলের সার্বিক পরিবেশ ও যাত্রীসেবার মান বহুগুণ উন্নত হয়েছে। স্বয়ং যাত্রীরাই স্বীকার করছেন যে, আগের জরাজীর্ণ ও নোংরা পরিবেশ এখন আর নেই। বিশেষ করে অনলাইনের মাধ্যমে শতভাগ টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করার ফলে স্টেশনে টিকিটের জন্য হাহাকার কমেছে এবং টিকিট কালোবাজারি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
আসন্ন ঈদযাত্রাকে আরও স্বস্তিদায়ক করতে বিভিন্ন রুটের ট্রেনের সাথে নতুন করে আরও একান্নটি যাত্রীবাহী বগি বা কোচ যুক্ত করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। বর্তমানে রেলের বহরে ৮২ থেকে ৮৩টি মিটারগেজ ইঞ্জিন সম্পূর্ণ সচল অবস্থায় যাত্রীসেবায় নিয়োজিত আছে। খুব দ্রুতই এর সাথে আরও এক-দুটি নতুন ইঞ্জিন যুক্ত হতে যাচ্ছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, যদি ৮৫ থেকে ৮৬টি মিটারগেজ ইঞ্জিন এই ঈদযাত্রায় পুরোপুরি সচল রাখা যায়, তবে শিডিউল বিপর্যয়ের ন্যূনতম সম্ভাবনাও আর অবশিষ্ট থাকবে না এবং দেশের দূরদূরান্তের যাত্রীসাধারণ কোনো ভোগান্তি ছাড়াই অত্যন্ত স্বচ্ছন্দে ও নিরাপদে প্রিয়জনের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনকালে মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন